ঢাকা , শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬ , ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন বিল রক্ষার্থে রাণীনগরে যাচাই সমীক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সিংড়ায় ইটালী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রবিনের নির্বাচনী গণসংযোগ সাপাহারে মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার ​সৌদি আরব ও হারামাইন শরিফাইনের নিরাপত্তার দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ক্রিকেট প্রিমিয়ার লীগ উদ্বোধন ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ১৬ বছরের রকিরের তালাকের পর মেয়েকে ‘মুক্ত’ করে বাজারে দুধ দিয়ে গোসল মায়ের বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইমাম আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংঘর্ষের প্রস্তুতির সময় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ২ পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি রূপচর্চায় নতুন নাম ‘ইলেকট্রোলাইট ক্রিম’ রাজশাহী মহানগরীতে মাদক সেবনের দায়ে দুজনের কারাদণ্ড হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু দূর্গাপুর হতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক ৩ আসামী গ্রেপ্তার দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: এমপি মিলন ব্রণের আবির্ভাব? মুখ ধোয়ার ৫ ভুলে আরও সমস্যা বা়ড়ছে! শুধরে নিন মান্দায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস পালন উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট! বালি থেকে দেশে আনা হচ্ছে নুসরতকে পুঠিয়ায় কৃষক কার্ডের আওতায় ১১২৪ কৃষক, পাবেন ২৫০০ টাকা আত্রাইয়ে কৃষক স্মার্ট কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন

দু’বার বিষপ্রয়োগের পরেও বেঁচে গেলেন সাজাপ্রাপ্ত!

  • আপলোড সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৫:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-১০-২০২৬ ০৫:৫৫:৩৪ অপরাহ্ন
দু’বার বিষপ্রয়োগের পরেও বেঁচে গেলেন সাজাপ্রাপ্ত! ছবি: সংগৃহীত
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রাণঘাতী বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল তাঁর শরীরে। একবার নয়, পরপর দু’বার! কিন্তু তার পরেও মৃত্যু হল না বছর পঞ্চাশের মহিলা বন্দি ক্রিস্টা পাইকের। বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ (বৃহস্পতিবার ভোরে) ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তাঁকে ‘পেন্টোবারবিটল’ নামে দু’টি রাসায়নিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও তাঁর মৃত্যু হয়নি।

সংবাদসংস্থা এপি জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড প্রক্রিয়া চলাকালীন দু’বার ঘরের পর্দা টেনে দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও বেরিয়ে যেতে বলা হয়। পাইকের আইনজীবীরা মাঝপথেই মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য জরুরি পিটিশন দাখিল করে জানান, “পাইক জ্ঞান হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর হৃৎস্পন্দন চলছে এবং তিনি সশব্দে নাক ডাকছেন।” এর পরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। টেনেসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেটের ওষুধ কাজ না করলে দ্বিতীয় সেটের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় সেটের পরেও বন্দি বেঁচে থাকলে কী করণীয়, সে বিষয়ে নিয়মে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।

ঘটনার জেরে টেনেসির গভর্নর বিল লি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘থার্ড-পার্টি’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, চলতি বছরের বাকি থাকা সমস্ত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন তিনি। যদিও টেনেসির সংশোধন দফতরের দাবি, তারা আইনি প্রোটোকল মেনেই কাজ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে মে মাসে তিন জনকে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত টোনি কারুথার্স নামে এক বন্দির শিরা খুঁজে না পাওয়ায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল।

অভিযোগ, শিরা খুঁজে না পাওয়া, পেন্টোবারবিটলের মান খারাপ হওয়া এবং জরুরি চিকিৎসার অভাবেই এই বিপত্তি ঘটেছে। পাইকের আইনজীবীদের নিযুক্ত চিকিৎসক জোয়েল জ়িভট জানিয়েছেন, সম্ভবত পাইকের রক্তে পেন্টোবারবিটলের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছোয়নি যা তাঁর শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্র বিকল করতে পারে। উল্টে দেরিতে চিকিৎসা শুরুর কারণে তাঁর মস্তিষ্কে গভীর ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক টাডেয়ারেল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছরের তরুণী কলিন স্লেমারকে চরম অত্যাচার করে খুন করেছিলেন পাইক। বিপথগামী কিশোর-কিশোরীদের এক জব ট্রেনিং ক্যাম্পে তাঁদের আলাপ হয়েছিল। পাইকের অভিযোগ ছিল, কলিন তাঁকে অপমান করেছেন এবং তাঁর প্রেমিককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। খুনের পর নিহতের বুকে শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত উল্টানো ‘পেন্টাগ্রাম’ এঁকে দেওয়া হয়েছিল। নিহতের মাথার খুলির একটি অংশ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন পাইক এবং অন্যদের কাছে এই খুনের বড়াই করেছিলেন বলে দাবি সাক্ষীদের।

এই নৃশংস খুনের দায়ে ১৯৯৬ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। টেনেসির ‘ডেথ রো’-তে থাকা একমাত্র মহিলা বন্দি তিনিই। আমেরিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারকে বলা হয় ‘ডেথ রো’। পাইক তাঁর প্রাণভিক্ষার আর্জিতে জানিয়েছিলেন, তিনি কলিনকে শুধু মারধর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ১৮ বছরের এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী হিসেবে নিজেকে সংযত করতে পারেননি।

মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন পাইকের আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি ছিল, পাইকের শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাস বিচারকেরা সে ভাবে বিবেচনা করেননি। যদিও সুপ্রিম কোর্ট একাধিক আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ বহাল রাখে।

অন্য দিকে, ফ্লরিডা থেকে মেয়ের খুনির মৃত্যু দেখতে এসেছিলেন নিহত কলিনের মা মে মার্টিনেজ়। এই ঘটনায় তিনি হতাশ। মার্টিনেজ়ের কথায়, “কী একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা! এমন একটা দিন বা মুহূর্ত বাদ যায় না, যখন আমি কলিনের কথা ভাবি না।”

প্রসঙ্গগত, ১৯৭৬ সালে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনার পর থেকে ওই দেশে এখনও পর্যন্ত ১৬৬৩ জন পুরুষের ফাঁসি হলেও, মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি ১৮, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের মাত্র ১ শতাংশের মতো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : md.masudrana2008@gmail.com

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ১৬ বছরের রকিরের

ঠাকুরগাঁওয়ে নাগর নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ১৬ বছরের রকিরের